নিউক্যাসল 0-1 এভারটন: বারির গোলে সেন্ট জেমস পার্কে ১০ জনের নিউক্যাসলের হার
থিয়েরনো বারির ফিরতি বলে করা গোলে পাঁচ দিনে নিউক্যাসলকে দ্বিতীয়বার হারাল এভারটন, উঠে এল সপ্তম স্থানে। শেষ মুহূর্তে লাল কার্ড দেখলেন জেকব র্যামসি।
EZCO সম্পাদকীয়··পড়ার সময়: 3 মিনিট

পাঁচ দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার নিউক্যাসল ইউনাইটেড-কে হারাল এভারটন। ২ নভেম্বর সোমবার রাতে সেন্ট জেমস পার্কে প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচটি ১-০ ব্যবধানে নিষ্পত্তি করে দেয় বিরতির চার মিনিট পর থিয়েরনো বারির গোল, আর তাতে এভারটন উঠে যায় টেবিলের সাত নম্বরে। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ দিকে বদলি জেকব র্যামসি এক মিনিটের মধ্যে দুটি হলুদ কার্ড দেখায় ১০ জন নিয়ে ম্যাচ শেষ করে নিউক্যাসল।
চার দিন আগেই লিগ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে একই প্রতিপক্ষকে ৩-১ গোলে হারিয়েছিল এভারটন। ডেভিড ময়েসের দলের এটি ২৮ ফেব্রুয়ারির পর প্রথম অ্যাওয়ে লিগ জয়ও – মজার ব্যাপার, সেই জয়টিও এসেছিল এই মাঠেই, ৩-২ ব্যবধানে।
যেভাবে এল গোল
প্রথমার্ধে বল দখলে দুই দল প্রায় সমান ছিল, কিন্তু কেউই গোলরক্ষককে সেভাবে পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি। এভারটন বেশি শট নিলেও বিরতির আগে একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি। নিউক্যাসলের সেরা সুযোগগুলো এসেছিল দূর থেকে: শুরুর দিকে হার্ভি বার্নসের শট পোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়, আর প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে জোয়েলিনটনের শটও অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর মুহূর্তটি। বক্সের ভেতর থেকে টাইরিক জর্জের শট নিউক্যাসল গোলরক্ষক লুকাস হর্নিচেক শুধু সামনে ঠেলে দিতে পারেন, আর ফিরতি বলে সবার আগে পৌঁছে সহজে জালে পাঠান বারি। অফসাইডের জন্য ভিএআর পরীক্ষার পর গোলটি বহাল থাকে। এএফপির তথ্যমতে, ফরাসি স্ট্রাইকারের এটি মৌসুমের অষ্টম গোল এবং শেষ ছয় ম্যাচে চতুর্থ।
শেষ আধা ঘণ্টায় জোর চাপ দেয় নিউক্যাসল। অ্যান্থনি এলাঙ্গার শট পোস্টে লেগে গোললাইন ধরে গড়িয়ে যায়, কোনোমতে বিপদমুক্ত করে এভারটন। মাথিয়াস ইয়াইসলে মাঠে নামান ইয়োয়ান উইসা, জেকব মারফি ও র্যামসিকে, কিন্তু উইসার শেষ দিকের প্রচেষ্টাগুলো ঠেকিয়ে দেন জর্ডান পিকফোর্ড – যোগ করা সময়ে পা দিয়ে করা একটি সেভসহ। হ্যারিসন আর্মস্ট্রংকে ফাউল করে র্যামসি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে।
নবম রাউন্ডের পর পয়েন্ট টেবিল
সোমবারের ম্যাচের পর সব দলেরই নয়টি করে ম্যাচ খেলা হয়ে গেছে। এভারটন সাত ধাপ এগিয়েছে, নিউক্যাসল নেমেছে এক ধাপ (প্রিমিয়ার লিগের পূর্ণ টেবিল):
| অবস্থান | দল | ম্যাচ | জয় | ড্র | হার | গোল পার্থক্য | পয়েন্ট |
|---|---|---|---|---|---|---|---|
| 6 | ব্রেন্টফোর্ড | 9 | 3 | 5 | 1 | +7 | 14 |
| 7 | এভারটন | 9 | 3 | 4 | 2 | 0 | 13 |
| 8 | বোর্নমাউথ | 9 | 3 | 3 | 3 | +1 | 12 |
| 13 | নিউক্যাসল ইউনাইটেড | 9 | 3 | 2 | 4 | −3 | 11 |
| 14 | ইপসউইচ টাউন | 9 | 3 | 2 | 4 | −4 | 11 |
মূল তথ্য
- গোল: থিয়েরনো বারি (৪৯'), টাইরিক জর্জের শট হর্নিচেক ফিরিয়ে দেওয়ার পর।
- লাল কার্ড: জেকব র্যামসি (নিউক্যাসল), দুটি হলুদ কার্ড, ৯০+৮'। তিনি নেমেছিলেন ৭৫তম মিনিটে।
- এভারটনের সপ্তাহ: চেলসি ও আর্সেনালের কাছে টানা দুই লিগ হারের পর নিউক্যাসলের বিপক্ষে দুই জয় (লিগ কাপে ৩-১, লিগে ১-০)।
- নিউক্যাসলের ফর্ম: এএফপির তথ্যমতে, সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ পাঁচ ম্যাচে চার হার। পরের ম্যাচ শনিবার ফুলহ্যামের বিপক্ষে – এক ম্যাচ নিষিদ্ধ র্যামসিকে ছাড়াই।
আমাদের বিশ্লেষণ
ম্যাচের আগে যেমনটা ভাবা হয়েছিল, ঠিক তেমনই হলো: আঁটসাঁট লড়াই, এক মুহূর্তে নিষ্পত্তি, আর জিতল ভালো রক্ষণ করা দলটিই। এভারটনের রক্ষণ ভাঙা আবারও কঠিন ছিল – জেমস টারকোস্কি আর কনকাশন প্রটোকল শেষে ফেরা জ্যারাড ব্র্যানথওয়েট মাঝখানটা সামলেছেন, আর নিউক্যাসল যখন অবশেষে লক্ষ্যে শট নিল, তখন নির্ভরযোগ্য ছিলেন পিকফোর্ড। ময়েসের দলে একমাত্র স্ট্রাইকারের যা করার, বারি ঠিক তা-ই করেছেন: বক্সে সজাগ থেকে পাওয়া একমাত্র সুযোগটি কাজে লাগিয়েছেন।
নিউক্যাসলের সমস্যা অবশ্য একটি ফলের চেয়েও গভীর। ইয়াইসলের দলে চেষ্টার ঘাটতি ছিল না, কিন্তু বেশির ভাগ বিপদই এসেছে দূরপাল্লার শট বা ক্রস থেকে। সপ্তম স্থান মাত্র দুই পয়েন্ট দূরে, তাই মৌসুম মোটেও শেষ হয়ে যায়নি – তবে পাঁচ দিনে একই দলের কাছে দুবার হার, তা-ও লিগে নিজেদের মাঠে, শনিবার ফুলহ্যাম ম্যাচের আগে চাপ বাড়িয়ে দিল।
নিউক্যাসল বনাম এভারটন এবং প্রিমিয়ার লিগের প্রতিটি ম্যাচ লাইভ দেখুন EZCO-তে – স্কোর, লাইনআপ আর হালনাগাদ টেবিলসহ।



